আশুড়ার বিল সংষ্কার কাজের বাঁধার নেপথ্যে প্রভাবশালীদের পুকুর বাণিজ্য; বিরামপুরের ইউএনও’র অভিযানে আটক-১

দেশজুড়ে প্রিয় দিনাজপুর

মোরশেদ মানিক, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বিরামপুর এবং নবাবগঞ্জে অবস্থিত উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র ঐতিহাসিক আশুড়ার বিল সংষ্কার কাজ গত একমাস থেকে বন্ধ করে রেখেছে প্রভাবশালীদের ইন্দনে অবৈধ দখলদাররা। এর নেপথ্যে দুই উপজেলার প্রভাবশালীদের পুকুর বানিজ্য রয়েছে বলে স্থানীয় জনগন ও প্রশাসন অভিযোগ করেছে।

২১ নভেম্বর শনিবার আশুড়ার বিল দখল করে পুকুর তৈরীর সময় বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার অভিযান চালিয়ে মুক্তার হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন। বন্ধ করে দিয়েছেন আশুড়ার বিল দখল করে তৈরী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিরামপুরের খানপুর ইউনিয়নের ধানজুড়ি এলাকায় এবং নবাবগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের খটখটিয়া কৃষ্টপুর এলাকায় বিল দখল করে ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর তৈরীর মহোৎসব চলছে। বিলের মাঝে আড়াআড়ি মাটির ভরাট করে তৈরী করে ক্ষমতা অনুযায়ী দখল করে পুকুর তৈরী করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুর বাণিজ্যকারী প্রভাবশালীদের ইন্দনে অবৈধ দখলদাররা কয়েকমাস আগে আশুড়ার বিলের পানি ধরে রাখার ক্রস ড্যামের বাঁধ কেটে দেয়। গত তিন সপ্তাহ আগে আশুড়ার বিলে পনি ধরে রাখার জন্য ক্রসড্যামের সংষ্কার কাজ শুরু করে প্রশাসন। এসময় স্থানীয় প্রভাবশালীদের ইন্দনে কতিপয় দখলদার সংস্কার কাজে বাঁধা দিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। ফলে আশুড়ার বিলটি পানিশূণ্য হয়ে পড়ে। এরপর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় ভূমিদস্যু প্রভাবশালীরা ইচ্ছে মতো বিলের জায়গা দখল করে ভেকু মেশিন দিয়ে দিন রাত পুকুর তৈরী করতে থাকে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান যে, নবাবগঞ্জের কহিনুর, রুহুল, রওশন, শাহিনুর, বিরামপুর মিজানুর, তাইজুদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী গত তিন সপ্তাহের মধ্যে আশুড়ার বিল দখল করে ২৬ টি পুকুর খনন করে।

আজ শনিবার দুপুরে ইউএনও পরিমল কুমার সরকারের অভিযানের সময় মুঠোফোনে কহিনুর দাবী করে যে, তাঁদের জমির দলিল রয়েছে। এ সময় ইউএনও জমির দলিল দেখতে চান। কিছুক্ষণ পরে কহিনুরের স্ত্রী জয়নব বেগম ইউএনও’র কাছে এসে জানান যে, কয়েক বছর আগে বিলের জমিটি বিরামপুরের চুরকুই গ্রামের ইসমাইল এর কাছ থেকে লীজ নিয়েছেন। তাঁদের কোন দলিল নেই। আটক মুক্তার হোসেনও জমির কোন কাগজ দেখাতে পারেনি।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার জানান, বিল দখল করে পুকুর তৈরীর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ও বনবিভাগের কর্মকর্তাসহ অভিযান চালানো হয়। বিরামপুর অংশে চারটি পুকুর তৈরীর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দখলদারদের অনেকেই দাবী করেছে যে, সরকারের কাছ থেকে পত্তন নেওয়া জমিতে পুকুর তৈরী করা হচ্ছে। কিন্তু পত্তন নেওয়া জমির শ্রেণি পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুন নাহার জানান, আশুড়া বিল উত্তরাঞ্চলের একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। বিলটিকে দখল করতে পুকুর বানিজ্যকারীসহ একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধ দখলদারদে নিয়ে ক্রসড্যাম সংষ্কার কাজে বাঁধা দিচ্ছে। সকল পুকুর উচ্ছেদ করে অচিরেই বিলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হবে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম জানান, বিল দখলকারীরা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেনো সকলকেই আইনের সোপর্দ করা হবে। বিল, বন দখল কারী এবং ইন্দনদাতাদের কোন ভাবেই ছাড় দেওয়া হবেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *