ওসি প্রদীপসহ ৭ পুলিশের রিমান্ড কখন শুরু হবে?

বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৩ আসামির রিমান্ড শুনানির কাগজপত্র এখনো (শুক্রবার রাত ৯টা) জেলা কারাগারে পৌঁছায়নি। তাই কবে নাগাদ তাদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব নিয়ে যাবেন তা এখনো নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মো. মোকাম্মেল হোসেন।

শুক্রবার (৭ জুলাই) রাতে কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার যুগান্তরকে জানান, মেজর সিনহা হত্যা মামলার রিমান্ডের আসামি কারাগার থেকে বের করার কোন ধরনের অনুমতি তাদের হাতে পৌঁছেনি। আদালত থেকে আদেশের কপি হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া (শুক্রবার) বন্ধের দিন হওয়ায় বাকি ৪ আসামিদেরও জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বলেও জানান জেল সুপার।

এদিকে র‌্যাব-১৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান জানান, আদালতের আদেশের কাগজপত্র পেলেই সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যার মামলায় আসামিদের রিমান্ড প্রক্রিয়া শুরু হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

এদিকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের পক্ষ থেকে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে কক্সবাজারস্থ টেকনাফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হেলাল উদ্দিন টেকনাফ থানার সদ্য সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস, বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদ্য সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি বাকি ৪ আসামি এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জেল গেইটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। পরে বুধবার (৫ আগস্ট) তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নথিভুক্ত করার আদেশ দেন। পাশাপাশি কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-১৫ এর কমান্ডারকে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। পরে ৬ আগস্ট বিকালে এই মামলায় ওসি প্রদীপসহ ৭ আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে সবাই কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *