করোনাকালে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার প্রবাসী কর্মী

বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাওয়ার সময়ের পর এখন পর্যন্ত ২৩টি দেশ থেকে ফেরত এসেছেন ৬৪ হাজার ৬৩ জন প্রবাসী কর্মী। এরমধ্যে পুরুষ কর্মী ৬১ হাজার ২১৫ জন এবং নারী কর্মী ২ হাজার ৮৪৮ জন। ফিরে আসা কর্মীদের একটি বড় অংশ কাজ হারিয়ে দেশে ফিরেছেন। কাজ হারিয়ে ফেরত আসা এই কর্মীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৭৪৪ জন। অর্থাৎ শতকরা ৫৯ ভাগই ফেরত এসেছেন কাজ হারিয়ে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত তারা ফেরত এসেছেন। এরমধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছেন ১১ হাজার ৪১১ জন, মালদ্বীপ থেকে ৭ হাজার ৪৪৭ জন, সিঙ্গাপুর থেকে ১ হাজার ৩৩২ জন, ওমান থেকে ৩ হাজার ১৫৫ জন, কুয়েত থেকে ৬ হাজার ৭০৩ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২২ হাজার ৬৫ জন, বাহরাইন থেকে ৭৪৬ জন, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৭১ জন, কাতার থেকে ৫ হাজার ৪৮৩ জন, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৫৫৯ জন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০০ জন, থাইল্যান্ড থেকে ২০ জন, মিয়ানমার থেকে ৩৯ জন, জর্ডান থেকে ৭৩৬ জন, ভিয়েতনাম থেকে ১৫ জন, কম্বোডিয়া থেকে ৪০ জন, ইতালি থেকে ১৫১ জন, ইরাক থেকে ১ হাজার ২০ জন, শ্রীলঙ্কা থেকে ৮০ জন, মরিশাস থেকে ৩৬ জন, রাশিয়া থেকে ১০০ জন, তুরস্ক থেকে ১ হাজার ৫৬০ জন এবং লেবানন থেকে ১৯৪ জন ফেরত এসেছেন।

বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে, কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষে, কাজ না থাকায় ফিরে আসেন তারা। কাজ হারিয়ে আসা কর্মীরা পুনরায় যোগ্যতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, যাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং কাজ হারিয়ে যারা দেশে ফেরত এসেছেন তাদের পুনরায় নিয়োগের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত আছে। পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজারে কাজের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, করোনার পর এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫ হাজার লোক ফেরত এসেছে। তাদের মূল সংকট হচ্ছে তারা শূন্যহাতে ফিরে এসেছেন। ফেব্রুয়ারি, মার্চের দিকে যারা এসে আটকা পড়েছেন তাদের অনেকেই কিন্তু অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। অনেকের বেতন বকেয়া আছে, অনেকের নিয়োগকর্তা নিশ্চিত করে বলছেন না যে তারা আবার কাজে যোগদান করতে পারবেন কিনা। এদের মধ্যে আবার যারা যাওয়া শুরু করেছেন তারাও কিন্তু আবার নানা দুর্ভোগে পড়ছেন। করোনা টেস্ট নিয়ে, বিমানের টিকিট নিয়ে। বিমানের টিকিটের দাম এমন হয়ে গেছে এটা মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের দেশের বিমানে যদি আমাদের প্রবাসীদের ১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয় সেটা কিন্তু দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, করোনার এই মহামারির সময় টিকিটের দাম সংক্রান্ত এই দুর্ভোগগুলো হওয়া উচিত না। আমি মনে করি একটি সিদ্ধান্ত কাজে না এলে তার অলটারনেটিভ একটা ব্যবস্থা রেখে প্রবাসীদের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সব ব্যবস্থাপনায় একটা আলাদা ফোকাস হওয়া উচিত প্রবাসীরা। কারণ, এরা আমাদের শুধু টাকা পাঠায় তা নয়, এদের কিন্তু কর্মসংস্থানটাও জরুরি। গত এক মাসে যা লোক আসছেন তা আগের মাসের প্রায় তিনগুণ। এখন ফ্লাইটগুলো স্বাভাবিক হয়নি, এখনই যদি এত পরিমাণে আসেন তাহলে স্বাভাবিক হলে কী হবে। গড়ে এখন প্রতিদিন ১ থেকে দেড় হাজার লোক ফিরছেন। এখন এই অবস্থা হলে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কী অবস্থা হবে তা আমরা জানি না। তাই সরকার যা-ই সিদ্ধান্ত নিক না কেন, নেওয়ার আগে যেন অ্যানালাইসিস করে, গবেষণা করে নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *