দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ টু-লেন সড়ক প্রসস্তকরণ কাজে ঠিকাদারের কচ্ছপ গতি; কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার !

দেশজুড়ে

শিমুল, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, গাফিলতি, কাজের ধীরগতি এবং করোনাকালিন দূর্যোগের ফলে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ টু-লেন সড়ক প্রশস্তকরণ নির্মান কাজে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে বসছে সরকার। একই সাথে চরম আর্থিক ক্ষতির সন্মুখীন হওয়ায় পথে বসতে যাচ্ছে মোহনপুর টোল প্লাজার ইজারাদার ও কর্মচারীরা।

দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুত্রে জানা যায়, সরকারের উন্নয়ন কার্য্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখে দিনাজপুর ফুলবাড়ি বিরামপুর ঘোড়াঘাট গোবিন্দগঞ্জ সড়কের ১০৬ কি:মি: সড়ককে ৮টি প্যাকেজের মাধ্যমে জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ের ৯টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টু-লেন সড়ক প্রসস্তকরণের কাজ শুরু করেছে। নির্দিস্ট সময়সীমার মধ্যে ১০৬ কি:মি: এই সড়ক নির্মান করতে সরকারের ব্যায় বরাদ্ধ রাখা হয়েছে প্রায় ৮৮২ কোটি টাকা,সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে এপর্যন্ত বরাদ্ধ পেয়েছে ৩৯১ কোটি টাকা। কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা ৩০ জুন ২০২১ তবে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে কিনা তাও অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যথারীতি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠনগুলো কাজ শুরু করলেও কচ্ছপ গতিতে চলছে নির্মান কাজ এবং কাজের মান অত্যান্ত নিম্নমানের। দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ টু-লেন সড়ক প্রশস্তকরণ নির্মান কাজ শুরু করার পর হতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নানান রকমের অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।

এব্যাপারে দিনাজপুর কোচ এবং ট্রাক টার্মিনালে কথা হয় ওই সড়কে চলাচলকারী ট্রাক ও বাস ড্রাইভার আব্দুল জব্বার ও মো: তসলিম উদ্দীনের সাথে তারা জানান, দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই তারা গাড়ি চালাচ্ছেন না। কারণ হিসেবে বলছেন সড়ক উন্নয়নের জন্যে ঠিকাদারদের খোড়াখুড়ির ফলে রাস্তার বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। গাড়ির অনেক ড্যামারেজ হয় ফলে এসড়কে এখন নিত্যান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউই যাতায়াত করেন না। তারা বলেন, অনেকটা পথ ঘুরে হলেও রংপুর সৈয়দপুর হয়েই তারা দিনাজপুর ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় যাতায়াত করছেন।

প্যাকেজে থাকা কাজগুলোর মধ্যে ঠিকাদাররা নিয়মমাফিক কোনো কাজই করছেনা, সমস্ত সড়ক একাধারে খুড়ে খানাখন্দকে পরিনত করেছে। ফলে খানাখন্দকে পড়ে গাড়ির স্প্রিংপাতি ভাংগাসহ নানান রকমের দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যানবাহন গুলো। একারনে ওই সড়কে পূর্বের মত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী কয়েক শত শত ডে এবং নাইট কোচ, ট্রাক-ট্যাংলড়ি, লোকাল বাসসহ ভারি যানবাহন চলাচল একেবারেই সীমিত হয়ে পড়েছে।

উত্তরবঙ্গের দিনাজপুরে একমাত্র মোহনপুর ব্রীজেই সরকারী টোল আদায় করা হয়, অথচ এখন এই টোলের কার্য্যক্রম বন্ধের উপক্রম হয়েছে। টোল আদায় করতে না পেরে ইজারাদার কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেনা ফলে সরকার পড়ছে রাজস্ব হারানোর হুমকির মুখে।

দিনাজপুর মোহনপুর টোল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো: হুমায়ুন কবির জানান, কচ্ছপ গতিতে চলছে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ টু-লেন সড়ক প্রশস্তকরণ নির্মান কাজ। সমস্ত সড়ক একসাথে খোড়াখুড়ি, খোয়া ও মাঠি ফেলানো, গাছ কাটা এবং ১২০টি কার্লভাট নির্মানের জন্য সড়ক কেটে গর্ত করে কাজ বন্ধ রাখায় এ সড়কে পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিকভাবে একেবারেই যানবাহন চলাচল করছে না।

তিনি বলেন, যানবাহন গুলো এখন রংপুর-সৈয়দপুর এবং চিরিরবন্দর-পার্বুতীপুর হয়ে দিনাজপুর পঞ্চগড় যাতায়াত করছে ফলে আমরা টোল আদায় হতে বঞ্চিত হচ্ছি। যেখানে আমরা আগে গড়ে প্রতিদিন (২৪ ঘন্টা) ২ লাখ ৫০ হাজার হতে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার টোল আদায় করতাম সেখানে এখন দৈনিক রাতদিন মিলিয়ে ৩৫ হাজার টাকা হতে ৫০ হাজার টাকা আদায় হচ্ছে। টোল আদায় না হওয়ার কারনে একদিকে যেমন কিস্তি পরিশোধ করতে পারছিনা অন্যদিকে কর্মচারীদের নিয়ে আমাদের একেবারে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

দিনাজপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানান, দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের প্রশস্তকরণের কাজ চলছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। তবে বর্ষা ও করোনাকালিন দূর্যোগের ফলে ম্যাটেরিয়াল সংকট থাকায় কাজে কিছুটা বিগ্ন ঘটলেও তা এখন স্বাস্ত্যবিধি মেনে পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, কোনো কোনো স্থানে যানবাহনের প্রচুর চাপ থাকায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সােেপক্ষে সেসব স্থানে সড়ককে ৪ লেন করার প্রক্রিয়া রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *