নোয়াখালীর ঘটনায় জড়িতরা কোনো দলের না, দুষ্কৃতকারী: তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করার অপচেষ্টা ঠিক নয়। নোয়াখালীতে যারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত ছিল তারা কোনো দলের নয়, সবাই দুষ্কৃতকারী। দুষ্কৃতকারীরা কোনো দলীয় পরিচয় ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালালেও সরকার তাদের ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবেই দেখছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার নেতাদের সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নারী নির্যাতনের ঘটনাকে রাজনীতিকরণের অপচেষ্টা করছে। এদিকে প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার হচ্ছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি আট বছরের শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, এমনকি নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে পুরো গ্রাম অবরুদ্ধ করে নারী-শিশুদের ধর্ষণ করেছে। ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপিদলীয় এই অপকর্মগুলোর বিরুদ্ধে সরকার বা দলের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, এটিই বাস্তবতা। সেই দলের মহাসচিব হিসেবে তিনি যখন এ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তার আগে তার চেহারাটা আয়নায় দেখা প্রয়োজন।

দেশের অর্থনীতিও ভেঙে পড়ছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই মন্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী তাকে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক মনোযোগ দিয়ে পড়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তিনি (ফখরুল) ঢাকা কলেজের অধ্যাপক ছিলেন, তাই তাকে এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

হাছান মাহমুদ অর্থনীতির চলতি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, করোনার শুরুতে অনেকে আশঙ্কা করেছিল, আমাদের অর্থনীতি খাদের কিনারে চলে যাবে, একটা বিরাট বিপর্যয় হবে। কিন্তু মহান স্রষ্টার কৃপায় ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে সেটি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের সব শঙ্কা-আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের রফতানি আয় হয়েছে ৯.৯ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের এ সময়ের তুলনায় ২.৫৮ শতাংশ বেশি। এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ৬.৭১ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৪৮.৫ শতাংশ বেশি। অনেকে বলেছিলেন বিদেশ থেকে লাখ লাখ কর্মী ফেরত আসবে অথচ এখন বৈধ কাগজপত্রসহ বিদেশে যাওয়ার জন্য বরং বিক্ষোভ হচ্ছে, ফেরত যাওয়ার বিমানের টিকিটের হাহাকার পড়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, এই করোনাকালেও জুলাই থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে রাজস্ব আয় গত বছরের তুলনায় ০.১৬ শতাংশ বেড়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ (বৈদেশিক মুদ্রা স্থিতি) ছিল ৩৯.৩১ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের রিজার্ভ ৩১.৮ বিলিয়ন ডলার থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন বেশি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী বাংলাদেশে এ বছর ২০২০ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৫.২ শতাংশের বেশি, যা চীনে ১.৮ শতাংশ ও এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে ঋণাত্মক। করোনাকালেও আমাদের এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভবপর হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্ব, সময়োচিত পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেয়ার কারণেই।

করোনা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনার শুরুতে যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয়েছে, এখনো তা মেনে চলা প্রয়োজন এবং যখনই পৃথিবীতে করোনার ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে, তখনই সরকার সেটি এনে জনগণকে দেয়ার জন্য ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *