পিরোজপুরে স্বামী-স্ত্রী-সন্তানের ঝুলন্ত লাশ, পুলিশ বলছে হত্যা

দেশজুড়ে

অনলাইন ডেস্ক

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় স্বামী-স্ত্রী-সন্তানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ধানীসাফা গ্রামে বসতঘর থেকে এই তিন জনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন ধানীসাফা গ্রামের মৃত রতন হাওলাদারের ছেলে অটোচালক আয়নাল হক হাওলাদার (৩৫), তার স্ত্রী খুকুমনি বেগম (২৫) ও তাদের সন্তান আসফিয়া ইসলাম (৩)।

এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আয়নালের আপন ভাইসহ চারজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. মাসুদুজ্জামান মিলু বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ একই পরিবারের তিনজনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে।

এটি কোনো আত্মহত্যার ঘটনা নয়। পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

“এ হত্যাকণ্ডের দ্রুত তদন্তে আইনশৃংখলা বাহিনীর তিনটি সংস্থা সিআইডি, পিবিআই, র‌্যাব ও ডিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।”

ওসি জানান, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহত অটোচালক আয়নাল হকের আপন বড়ো ভাই হেলাল হাওলাদার, প্রতিবেশী চাচা মালেক হাওলাদার, চাচাত ভাই বেল্লাল হাওলাদার ও একই গ্রামের মাহবুব হাওলাদারকে আটক করেছে।

নিহত আয়নালের বড়ো বোন দুলীয়া বেগম বলেন, আয়নাল হক হাওলাদার ধানীসাফা বাজারের কাছে সড়কের পাশে একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী খুকু মণি ও তাদের তিন বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে আসফিয়াকে নিয়ে বসবাস করতেন। পাঁচ মাস আগে তারা ওই ভাড়া বাড়িতে ওঠেন।

দুলীয়া বলেন, বৃহস্পতিবার দিনভর অটো চালিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন আয়নাল। রাতের আহার শেষে তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন।

“গভীর রাতে অজ্ঞাত একদল দুর্বৃত্ত ঘরের মেঝেতে সিঁদ কেটে ঘরে ঢোকে। পরে তাদের হত্যা করে হাত-পা বেঁধে ঘরের মধ্যে লাশ ঝুলিয়ে রেখে ঘরের মালামাল তছনছ করে চলে যায়।”

দুলীয় আরও বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রতিবেশী চাচাত বোন মহিমা খাতুন ওই বাড়ি গিয়ে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে দরজায় ধাক্কা দিলে খুলে যায়। এ সময় তিন জনের লাশ ঝুলতে দেখে চিৎকার দিলে লোকজন ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন।

দুলীয়া বেগম আরও বলেন, তার ভাইয়ের তেমন কোনো শত্রু ছিল না। তবে আট বছর আগে চাচাত চাচা মালেক হাওলাদারের কাছ থেকে পাঁচ কাঠা জমি ক্রয় করলেও জমিতে দখল পাননি তার ভাই। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, এ ‘হত্যাকাণ্ড’ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ ঘটনার কারণ বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে চারটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে।

লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *