প্রাথমিকেও আসছে অটোপাস

বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্কঃ করোনার কারনে প্রাথমিকস্তরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এবার বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না। পরীক্ষার পরিবর্তে স্বস্ব স্কুলে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (কন্টিনিউ অ্যাসেসমেন্ট) করার জন্য ৩০ কর্ম দিবসের একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিক (নেপ)।  সেটিও নির্ভর করছে স্কুল খোলার ওপর। শীতের আগমণে করোনা পরিস্থিতি বেড়ে গেলে চলতি শিক্ষাবর্ষে স্কুল খোলার পরিকল্পনা নেই। সেক্ষেত্রে মাধ্যমিকস্তরের শিক্ষার্থীদের মতো প্রাথমিকেও অটোপাস ঘোষণা করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কেউ এখনই পরিষ্কার করে কিছু না বলে সেরকমই ইঙ্গিত দিচ্ছেন ।শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম গতকাল সোমবার নিজ দপ্তরে আজকালের খবরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বিষয়ে চলতি সপ্তহে একটি সভা করা হবে। সভায় বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্বান্ত নেওয়া হবে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরইমধ্যে চলতি বছরের পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে সরকার। আর এইচএসসি ও মাধ্যমিকস্তরের শিক্ষার্থীদের অটোপাস ঘোষণা করা হয়েছে। মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করতে ৩০ কর্মদিবসের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। তবে গতকাল পর্যন্ত প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম আজকালের খবরকে বলেন, নেপ ৩০ দিনের একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। সেটি থেকে শিক্ষার্থীদের অ্যাসেসমেন্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি স্কুলে আমরা সেটি পাঠিয়ে দিব। আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। তবে অ্যাসেসমেন্ট করা নির্ভর করছে স্কুল খোলার ওপর। স্কুল খোলার সিদ্বান্ত না হলে অ্যাসেসমেন্ট কি করে করবো প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা বয়সে অনেক ছোট। ছয় থেকে বারো বছর বয়স তাদের। প্রত্যন্ত এলাকায় অনেক স্কুল রয়েছে। স্কুল বন্ধ রেখে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অ্যাসেসমেন্ট করা যৌক্তিক হবে না। স্কুল খোলার সিদ্বান্ত হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি শিক্ষাবর্ষে স্কুল খোলা না গেলে অটোপাস ঘোষণা করা হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সূত্র জানিয়েছে স্কুল খোলা না হলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের অটোপাশ ঘোষণা করা হবে।  

নেপ মহাপরিচালক মো. শাহ আলম আজকালের খবরকে বলেন, আমরা ৩০ কর্ম দিবসের একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করেছি। সংক্ষিপ্ত সিলেবাস থেকে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। ১৫ নভেম্বর থেকে স্কুল খুললে সেদিন থেকেই কার্যক্রম শুরু হবে। বার্ষিক পরীক্ষার পরিবর্তে স্কুল পর্যায়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে। সংসদ টিভি, রেডিও ছাড়াও স্ব স্ব স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হবে। এ ধরনের পরিকল্পনা তৈরি করে ডিপিইতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকাকালীন একটি পরিকল্পনা করেছিল নেপ। তাতে ১ অক্টোবর  স্কুল খুললে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্লাস নিয়ে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। সেক্ষেত্রে ৫৭ দিন ক্লাস করার কথা বলা হয়েছিল। ১ নভেম্বর থেকে স্কুল খুললে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্লাস নিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে ৪০ দিন ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এসব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *