বর্তমান সরকার স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠিত করতে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে বলেই গণমাধ্যম এখন দায়িত্বশীল হয়েছে: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

দেশজুড়ে প্রিয় দিনাজপুর

বিরল প্রধিনিধিঃ

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমাদের নেত্রীর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিন কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমি দেখেছ তিনি কখনই গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যান না। অনেক সময় গণমাধ্যম সমালোচনা করলেও তিনি সেই সমালোচনাকে গ্রহণ করেন। সঠিক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় তিনি সব সময় উৎসাহ প্রদান করেন। আমরা চাই বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করুক এবং গত ১০ বছর আমরা দেখেছি গণমাধ্যম কিভাবে উন্মুক্তভাবে কাজ করছে। উন্মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করার মানে এই নয় যে আমরা নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্র ও সঠিক ইতিহাসকে অপব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করবো। স্বাধীনতা মানে এই নয় যে লাগামহীন কথাবার্তা বা লেখালেখি উপস্থাপন করবো, আরেকজন সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিস্বার্থে চরিতার্থ করবো। স্বাধীনতা হচ্ছে সেটাই, যেটা মানুষকে অর্থবহ করে তোলে, মানুষকে আরও সমৃদ্ধ করে। আমি মনে করি গণমাধ্যমের এটাই পাথেয় হওয়া উচিত এবং সেই পথেই চলা উচিত। 

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিরল প্রেসক্লাবের পাঁচ তলা ভিত্তি বিশিষ্ট ১ম তলা ভবনের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণমাধ্যমের নেটওয়ার্ক অনেক বড় হয়েছে। বিশেষ করে এই সময়ের মধ্যে যত গণমাধ্যমের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, হাজার হাজার অনলাইন সংবাদমাধ্যম চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে নীতিমালার আওতায় আনতে নিবন্ধন শুরুর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এটা একটা মাইলফলক!

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এক সময় বিটিভিকে সাহেব, বিবি, গোলামের বাক্স বলা হতো। এমন একটা পরিস্থিতি ছিল যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসতো, সেই সরকার সে সরকার প্রধানকে দেখানো হতো, তার মন্ত্রীদেরকে দেখানো হতো, এর বাইরে জনগণের কথা দেখানো হতো না। ৭৫ পরবর্তী জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সময়ও আমরা একই চিত্র দেখেছি। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পরই প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশ টিভির অনুমোদন দিয়েছিলেন। গোটা পথিবীর পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের আপামর জনগণের কথা তুলে ধরা হতো। এরপরই চ্যানেল আই’সহ বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়া হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য ২০০১ সালের পর একুশে টিভি চ্যানেলকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। একুশে টিভি চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, যিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অসামান্য অবদান রেখেছিলেন, তাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছিলেন খালেদা জিয়ারা। পাশাপাশি কিছু টেলিভিশন চ্যানেল যেগুলো মুক্তিযুদ্ধের বিপরীত এবং গণমানুষের বিপরীতে কাজ করছিল, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহ দিতো, ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিল, সেইসব চ্যানেলকে দিয়ে অপব্যাখ্যা প্রচার করেছিল। 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান গণমাধ্যম মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের কোনও বিষয় নিয়ে কেউ যদি বিকৃতির চেষ্টা করে, সেখানে গণমাধ্যম কলম ধরছে। নতুন প্রজন্মের জন্য সুখবর, গণমাধ্যমে এখন আর বিকৃত ইতিহাস লেখে না, এর কারণ হলো দায়িত্ব। এর আগে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা চলছিল। বর্তমান সরকার স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠিত করতে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে বলেই গণমাধ্যম এখন দায়িত্বশীল হয়েছে।

প্রেসক্লাব সভাপতি এম এ কুদ্দুস সরকারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পৌর মেয়র আলহাজ সবুজার সিদ্দিক সাগর, প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রমা কান্ত রায়, আজীবন সদস্য ও রুপালী বাংলা জুট মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ এম আব্দুল লতিফ, সহ-সভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপজলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন প্রমুখ। 

প্রধান অতিথি এর আগে ফলক উন্মোচন ও ফিতা কেটে প্রেসক্লাব ভবনের শুভ উদ্বোধন, প্রেস ক্লাবের জমির দলিল হস্তান্তর এবং শেষে বৃক্ষরোপন করেন। এ সময় প্রধান অতিথিকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। 

এছাড়াও প্রধান অতিথি পুলহাট মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দেওয়ানজি দিঘী দাখিল মাদ্রাসার চারতলা ভবনের ভিত্তি প্রস্তর, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধু কর্ণার, ৬নং ভান্ডারা ইউনিয়ন তহসিল অফিসের ভিত্তি প্রস্তর ও বালাদার উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *