সময়ের বিরুদ্ধে স্রোত মাড়িয়ে ছাত্রলীগ মানুষের পাশে দাঁড়াবে’

বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক:

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সময়ের বিরুদ্ধে স্রোত মাড়িয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঐহিত্যের ধারাবাহিকতায় মানবিকতার মূল্যবোধ নিয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াবে। দুর্যোগে ছড়াবে আশার আলো। নৈতিক শক্তি রাখবে অটুট। সৃজনশীলতা আর মননশীলতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের মন জয় করবে। ছাত্রলীগকে করে তুলবে আরও জনপ্রিয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থার ঠিকানা।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২১ আগস্ট স্মরণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সাম্প্রতিক সময়ে গুণগত মান উত্তরণের প্রশংসা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নতুন করে দেখলাম এবার বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগকে, শেখ হাসিনার হাতে গড়া ছাত্রলীগকে। বুকের গহীনে ভালোবাসা আবারও জেগে উঠেছে। তারুণ্যের গতিময় শক্তির প্রতি আস্থা আর ভরসা আরও বেড়েছে। তোমাদের সকল ভালো কাজের জন্য জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখন চলছে আগস্ট মাস। ইতিহাস এ জনপদে বার বার ফিরে আসে বেদনার নীল রঙ ধারণ করে। সেদিন সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ চলছিল। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ করে ট্রাক দিয়ে বানানো মঞ্চ থেকে নামার জন্য পা বাড়ালেন এদেশের জনমানুষের নয়নমণি, আমাদের আস্থার নিউক্লিয়াস বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। আর তখনই একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে আর্জেস গ্রেনেড। স্লিন্টারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত অসংখ্য মানুষ রক্তস্রোতের মধ্যে কাতরাচ্ছে। বয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতাদের রক্তস্রোত। ঘটনার বিহ্বলতা কাটিয়ে নেতাকর্মীরা আহতদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। পুলিশ সাহায্য তো করেওনি বরং বাধা দেয়। লাঠিচার্জ করে কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে অন্ধকারের প্রেতাত্মারা নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল বঙ্গবন্ধু পরিবারকে। আওয়ামী লীগকে করতে চেয়েছিল নেতৃত্বশূন্য। তাদের প্রাইম টার্গেট ছিল শেখ হাসিনা।’

তিনি বলেন, ‘২১শে আগস্ট ১৫ই আগস্টেরই ধারাবাহিকতা। বিএনপি তখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা সেদিন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং তদন্ত বাধাগ্রস্ত করেছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। তারা জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছিল। হামলার পর-পরই আলামত নষ্ট করে দিয়েছিল। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে তদন্ত করতে আসতে দেওয়া হয়নি। সহযোগিতা করা হয়নি এফবিআইকে। বিচারপতি জয়নুল আবেদিনকে নিয়ে গঠিত এক সদস্যের তদন্ত কমিশন হাস্যকরভাবে এই হামলার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশকে দায়ী করে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘২১শে আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডও হাওয়া ভবন। মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে সব উঠে এসেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সব জানতো। হামলার পর সংসদে আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। বিচার তো করেইনি বরং আমাদের উপহাস করেছে।’

ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘বিএনপির নেতারা ২১ শে আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা বলে বক্তব্য দেন। প্রকৃতপক্ষে ২১শে আগস্ট কোনো দুর্ঘটনা নয়, একটি পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন বলেই উন্নয়ন অগ্রগতির রোল মডেল বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের প্রথম ধাপে উন্নীত হয়েছে। আর ওইদিকে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র গুজব মিথ্যাচারের বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। এদেশের মানুষের চোখের ভাষা, মনের ভাষা অনায়াসে বুঝতে পারেন বলেই শেখ হাসিনা আসন করে নিয়েছেন জনমানুষের মনের মণিকোঠায়। তিনি সংকটে দুর্যোগে পরীক্ষিত এক মানবিক নেতৃত্ব।’

ছাত্রলীগের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সময়ের বিরুদ্ধে স্রোত মাড়িয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঐহিত্যের ধারাবাহিকতায় মানবিকতার মূল্যবোধ নিয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াবে। দুর্যোগে ছড়াবে আশার আলো। নৈতিক শক্তি রাখবে অটুট। সৃজনশীলতা আর মননশীলতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের মন জয় করবে। ছাত্রলীগকে করে তুলবে আরও জনপ্রিয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থার ঠিকানা।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতির পাশাপাশি গড়ে তুলবে আন্তর্জাতিক মানের ক্যারিয়ার। খেয়াল রাখতে হবে, ছাত্রলীগ যেন নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম না হয়। ইদানিং ছাত্রলীগ দুঃখী ভাসমান মানুষের, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ইতিবাচক সংবাদের শিরোনাম অথচ গতকাল একটি খবর আজ পত্র-পত্রিকায় বেরিয়েছে। ছাত্রলীগের যে ইমেজ ইদানিং গড়ে উঠেছে, ফরিদপুর সভাপতির মতো অপকর্মকারী ছাত্রলীগে যেন আর অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যাপারে নেতাকর্মীদের অনুরোধ করছি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তবে শেখ হাসিনার এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও মসৃণ, আরও শক্তিশালী করতে হবে। ছাত্রলীগকে নিয়ে নেত্রী গর্ব করে। ঈদের সময় আমাকে বলেছেন, ছাত্রলীগের জন্য কিছু করেছো। তারপর নেত্রী আবার নিজস্ব উদ্যোগে ছাত্রলীগ কর্মীদের যারা ঢাকায় আছে তাদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন।’ নেত্রীর বড় মুখ যাতে ছোট না হয়, সেদিকে সবাই খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। এছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *