১৭তম নাজমা রহিম বৃত্তি প্রদানকালে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা ডাঃ নাদিরা সুলতানা

প্রিয় দিনাজপুর

শিমুল, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:

দিনাজপুর নাজমা রহিম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১৭তম নাজমা রহিম বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত এম. আব্দুর রহিম-এর জ্যেষ্ঠ কন্যা জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা ডাঃ নাদিরা সুলতানা।

২৯ আগষ্ট শনিবার দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের পাঁচকুড় উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনাজপুর নাজমা রহিম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১৭তম নাজমা রহিম বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে পাঁচকুড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আব্দুল বাতেন শাহ্-এর সভাপতিত্বে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত এম. আব্দুর রহিম-এর জ্যেষ্ঠ কন্যা জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা ডাঃ নাদিরা সুলতানা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা ভালো মত লেখাপড়া করে পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে তোমরাও আরও মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারবে। এখন থেকেই সে স্বপ্ন নিয়ে নিজেদের তৈরী করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ছোট বেলায় আমার বাবাকে প্রশ্ন করতাম অমুকে অনেক বেশী বেতন পায়। সে সময় আমার বাবা বলতেন তারা মানুষের জন্য কি করছে? একজন মানুষ মরে যাবে। কিন্তু মানুষ মরেও বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে, মানুষকে সেবা করার মাধ্যমে, মানুষের উপকার করার মাধ্যমে। তোমাদের হয়তো মনে হতে পারে এই ২৫শ’ কিংবা ১২শ’ টাকা তেমন কিছু না। কিন্তু যদি তোমরা মনের মধ্যে চিন্তা করো আমিও মানুষের জন্য কিছু করতে পারবো এটাই অনেক বড়, এটা করতে সাহস লাগে। আজকে তোমরা যারা বৃত্তি পাবে নিজেকে নিয়েও একটু চিন্তা করতে হবে। আমি লেখা পড়া করে যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করে মাঝপথে বাল্য বিয়ে দিয়ে মেয়েদের ভবিষ্যৎকে নষ্ট করবেন না। মেয়েদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করলে যথাসময়ে তারা নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা যদি পায় নিশ্চয়ই তারা ভালো করবে।

পাঁচকুড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাতলুবুল মামুন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রয়াত এম আব্দুর রহিমের জামাতা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ নাসিমা সুলতানার স্বামী ডাঃ লুৎফর রহমান, শংকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইসহাক চৌধুরী, শংকরপুর স্কুল ও উথরাইল মাদ্রাসার সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ও শংকরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ্ জামাল সরকার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা ডাঃ নাদিরা সুলতানার পুত্র নাহিয়ান কবীর ও অধ্যাপক ডাঃ নাসিমা সুলতানার পুত্র আন্তর্জাতিক বডি বিল্ডার্স খেলোয়াড় নাসিফ রহমান।

উল্লেখ্য, ২০০৪ ইং সাল থেকে ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে নাজমা রহিম বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। এ বছর পাঁচকুড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০জন শিক্ষার্থীকে প্রত্যেককে ২৫শ’ টাকা, শংকরপুর এম. দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষাথীকে প্রত্যেককে ২৫শ’ টাকা, এম. আব্দুর রহিম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থীকে প্রতেককে ১২শ’ টাকা এবং পাঁচকুড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০জন শিক্ষাথীকে প্রত্যেককে ১২শ’ টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *